চুরি করতে দেখে ফেলায় দুই বোনকে ধর্ষনের পর জবাই করে হত্যা।
Tuesday, April 28, 2020
Edit
| চুরি করতে দেখে ফেলায় দুই বোনকে ধর্ষনের পর জবাই করে হত্যা। |
পুলিশ জানায়, হত্যার পাঁচদিন পর ওই এলাকা থেকে পারভেজকে গ্রেফতার
করা হয়। তার দেয়া তথ্যের সূত্র ধরে চুরি হওয়া দুইটি মোবাইল ফোন, তিনটি গলার চেন,
কানের দুল ও রক্তমাখা জামা উদ্ধার করা হয়েছে।
কিশোর জানায়, কাজলের স্ত্রী ও বড় মেয়ের টাচ মোবাইল চুরির
উদ্দেশ্যে বাবুলের বাড়ির পিছন দিক দিয়ে বাড়ির ছাদে উঠে সে। তার
পরে নিজের কাছে থাকা ব্লেড দিয়ে ছাদে কাপড় শোকানো রশি কেটে ছাদের গ্রীলে
বাঁধে। এরপর রশি বেয়ে একটু নীচেই দোতলার বাথরুমের ফাঁকা জায়গা দিয়ে ঘরের
ভেতরে ঢুকে। নিচে নেমে নুরা ও হাওয়ারিন এর রুমে প্রবেশ করে খাটের নীচে
লুকিয়ে থাকে। নুরার তখন কানে হেডফোন ছিল ও ছোট বোন হাওয়ারিন ঘুমিয়ে ছিল।
আনুমানিক ১ ঘণ্টা পর সকলে ঘুমিয়েছে ধারণা করলে নীচ তলায় নেমে রান্না ঘর হতে
ধারালো বটি নিয়ে দোতলায় উঠে। মোবাইল নেয়ার জন্য নুরার মার কক্ষের দরজার লক
খোলার চেষ্টা করলে শব্দে নুরার মা জেগে উঠে। বাথরুমের আশপাশ কেউ আছে কিনা
খোঁজ করে ফাতেমা। এক পর্যায়ে ফাতেমা তাকে দেখে চিনে ফেললে চিৎকার দেয়। তখন
সে তার হাতে থাকা বটি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ীভাবে
কোপায়। নুরার মা অজ্ঞান হয়ে ফ্লোরে পড়ে যায়। নুরা শব্দ পেয়ে ঘুম থেকে জেগে
উঠলে তাকেও বটি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
অতঃপর নুরার ছোট ভাই ফাদিল জেগে উঠলে তার মাথায় কোপ মারে, সে ফ্লোরে পড়ে
গেলে প্রথমে তাকে জবাই করে নুরার খাটের নীচে রাখে তারপর হাওয়ারিন ঘুম থেকে
জেগে উঠে চিৎকার দিলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে। পরবর্তীতে সে নুরাকে ধর্ষণ
করে। নুরার মাকে ওড়না দিয়ে হাত পা বেঁধে অতঃপর অর্ধমৃত হাওয়ারিনকেও ধর্ষণ
করে এবং মৃত নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে গলা কেটে হত্যা করে।
তারপর নুরার মার গলায় স্বর্ণের চেন, কানের দুল ও কান ফুল ও নাক ফুল খুলে নেয়
এবং হাওয়ারিন এর কান থেকে ২টি স্বর্ণের রিং খুলে নেয়া হয়। পরবর্তীতে আলমিরা
খুলে ২টি স্বর্ণের চেন, ১টি আংটি, ১টি লাল রং এর ছোট ডাইরি, নুরার মায়ের
রুম হতে ২টি বড় টাচ মোবাইল নেয়। মোবাইল ও স্বর্ণালংকার তার পরিহিত পায়জামার
পকেটে রাখে। এরপর সে হাত মুখ ধুয়ে ফেলে পেছনের গেইট খুলে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর দিন নিহতের শ্বশুর আবুল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।